
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওমান সাগরে উভয় দেশের এই নৌমহড়া অনুষ্ঠিত হবে (প্রতীকী ছবি)
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬| আপডেট: ২০:৪৬, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তেহরান–ওয়াশিংটন বৈঠকের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যৌথ সামরিক মহড়া চালাতে যাচ্ছে ইরান ও রাশিয়া। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওমান সাগরে উভয় দেশের এই নৌমহড়া অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতেও সামরিক মহড়া শুরু করেছে তেহরান। এটিকে এই অঞ্চলে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের সর্বশেষ দফার আলোচনার পর বৃহস্পতিবার ওমান সাগরে যৌথ নৌমহড়া পরিচালনা করবে ইরান ও রাশিয়া। এর আগে গত সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা ‘রেভল্যুশনারি গার্ড’ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতেও মহড়া শুরু করে। অঞ্চলটিতে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য এটি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মহড়ার মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাগসুদলুর উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তাসংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ও রাশিয়ার যৌথ নৌমহড়া আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ওমান সাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি বলেন, এই মহড়ার উদ্দেশ্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করা। তবে মহড়ার সময়কাল সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
এর আগে মঙ্গলবার ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় অনুষ্ঠিত ওয়াশিংটন ও তেহরানের দ্বিতীয় দফার আলোচনার পর ইরান বেশ ইতিবাচক বার্তা দেয়। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার পর দুই দেশের আগের আলোচনা ভেঙে গিয়েছিল। ওই হামলাকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয় এবং সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও স্বল্প সময়ের জন্য জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবান সেনাসদস্যসহ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। আর এটিকে তিনি ‘আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার এই সময়গুলোতে ইরানি কর্মকর্তারা বারবার হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রণালীটি কখনও পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।
বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী অতীতে একাধিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনাকে ঘিরে চাপ বাড়ায় প্রণালীটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার ইরান ঘোষণা দেয়, নিজেদের মহড়ার সময় ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রণালীর একটি অংশ আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হবে।
তবে এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপকে অনেক বিশ্লেষকই দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে। কারণ, এমন সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসলো যখন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি জড়ো করেছে এবং কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর হামলার হুমকিও দিয়েছে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন কর্মসূচির পরিচালক সিনা এজোদি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যেদিন তারা আমেরিকানদের সঙ্গে আলোচনা করছে, সেদিনই এই ঘটনা ঘটছে, এটা কাকতালীয় বলে আমি মনে করি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান বহু দশক ধরে নিজেকে পারস্য উপসাগরে নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চেয়েছে। প্রণালী বন্ধ করে তারা মূলত এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, সেখানে কারা নিয়ন্ত্রণ করছে।’
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল